17/07/2025
বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য নতুন মূসক পরিশোধ পদ্ধতি
বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুটি সাধারণ আদেশ এসেছে। তবে প্রথম সাধারণ আদেশ নং ৪/মূসক/২০২৫, তারিখ ১লা জুলাই ২০২৫ আজ থেকে আর কার্যকর নেই।
যার ফলে সাধারণ আদেশ নং ৬/মূসক/২০২৫, তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫
এ আমদানিকারকদের কর ব্যবসায় পর্যায়ে কর নির্ধারণ সম্পর্কিত কয়েকটি পদ্ধতির বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
১. বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক আমদানি পরবর্তী প্রথম সরবরাহের মূসক নিরূপণ
বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক আমদানিকালে ৭.৫% হারে আগাম কর পরিশোধের মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের স্থানীয় পর্যায়ে প্রথম সরবরাহের ওপর আরোপনীয় মূসক নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে নিরূপিত হবে, যথাঃ
(ক) আমদানিকালে পরিশোধিত ৭.৫% আগাম কর চূড়ান্ত হিসাবপূর্বক (Final Settlement) সরবরাহের ক্ষেত্রে
আমদানি পর্যায়ে আগাম কর পরিশোধ করার পর কাস্টমস স্টেশন থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্য ঘোষণাতে প্রদর্শিত ঠিকানা বা ব্যবসাস্থলে সংশ্লিষ্ট পণ্য আনয়নের পূর্বে বা পরে পরবর্তী প্রথম বিক্রয় বা সরবরাহের সময় (নিজস্ব মালিকানাধীন কিন্তু আলাদাভাবে নিবন্ধিত অন্য কোনো ব্যবসাস্থল বা পণ্যাগারে স্থানান্তরসহ) মূল্য সংযোজনের হার ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশের অধিক না হলে সংশ্লিষ্ট আমদানি পণ্য ঘোষণা নম্বর, তারিখ ও কাস্টমস স্টেশনের নাম, পণ্যের বিবরণ এবং এইচ এস কোড উল্লেখ করে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৪০(গ) অনুযায়ী ফরম 'মূসক-৬.৩' এ কর চালানপত্র ইস্যু করা হবে। উক্ত মূসক চালানপত্রে এই মর্মে উল্লেখ (সীল/প্রিন্ট/হাতে লিখে) করতে হবে যে, "আইনের ধারা ৩১ এর উপ-ধারা (৩ক) অনুসারে আমদানিকালে আগাম কর পরিশোধিত"। এক্ষেত্রে তিনি আমদানিকালে পরিশোধিত মূসক রেয়াত গ্রহণ করতে পারবেন না এবং আগাম কর হ্রাসকারী সমন্বয় করতে পারবেন না। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক প্রথম সরবরাহ যোগানদার হিসাবে বিবেচিত হলে উক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
উদাহরণ:
কোনো বাণিজ্যিক আমদানিকারক বিদেশ থেকে পণ্য ঘোষণার মাধ্যমে ১০০ কেজি পণ্য আমদানি করেছেন যার আমদানির ভিত্তিমূল্য ২০০ টাকা এবং ৭.৫% হারে পরিশোধিত আগাম করের পরিমাণ ১৫ টাকা। স্থানীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির সংযোজনের হার ৫০% এর অধিক না হওয়ায়, আমদানিকালে পরিশোধিত আগাম করকে চূড়ান্ত হিসাবপূর্বক (Final Settlement) সরবরাহ করবেন বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। প্রথমে তিনি একটি চালানের মাধ্যমে ২০ কেজি পণ্য সরবরাহ করেছেন যার মূল্য ৪০ টাকা এবং ৭.৫% হিসাবে আগাম করের পরিমাণ ৩ টাকা। এক্ষেত্রে তিনি কর চালানপত্র মূসক-৬.৩ এর কলাম ১০ এ মূসকের পরিমাণ ৩ টাকা উল্লেখ করবেন এবং অন্যান্য কলাম স্বাভাবিক নিয়মে পূরণ করে আইনের ধারা ৩১ এর উপ-ধারা (৩ক) অনুসারে আমদানিকালে আগাম কর পরিশোধিত উল্লেখপূর্বক (সীল/প্রিন্ট/হাতে লিখে) মূসক চালানপত্র ইস্যু করবেন।
এইভাবে কোনো পণ্য ঘোষণার মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি সরবরাহের বিপরীতে মূসক চালান ইস্যু করতে হবে। কিন্তু আমদানিকৃত সমুদয় পণ্য একটি চালানের মাধ্যমে সরবরাহ করলে, উক্ত সরবরাহের সাথে জড়িত আমদানিকালে ৭.৫% হারে পরিশোধিত সমুদয় আগাম কর মূসক চালানপত্রের কলাম-১০ এ প্রদর্শন করতে হবে।
(খ) স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের হার ৫০ শতাংশের অধিক হলে
আদর্শ হারে রেয়াতি পদ্ধতিতে সরবরাহের ক্ষেত্রে: বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য পরবর্তী প্রথম সরবরাহ বা বিক্রয়ের সময় সংযোজনের হার ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশের অধিক হলে এবং ধারা ১৫ এর বিধান মোতাবেক ১৫% হারে সরবরাহ করিলে, আইনের ধারা ৪৬ এর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে রেয়াতি পদ্ধতিতে মূসক পরিশোধ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমদানিকালে পরিশোধিত ১৫% মূসক রেয়াত গ্রহণ ও পরিশোধিত ৭.৫% আগাম কর হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করতে পারবেন।
স্থানীয় পর্যায়ে হ্রাসকৃত হারে সরবরাহ: বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রথম সরবরাহ বা বিক্রয়ের সময় সংযোজনের হার ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশের অধিক হলে, আইনের ৩য় তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩ এর বিধান অনুযায়ী সমুদয় সরবরাহ মূল্যের উপর ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৭.৫% হারে মূসক পরিশোধ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমদানিকালে পরিশোধিত ৭.৫% আগাম কর হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করতে পারবেন, তবে আমদানিকালে পরিশোধিত ১৫% মূসক রেয়াত গ্রহণ করতে পারবেন না।
প্রকৃত সংযোজনের ভিত্তিতে রেয়াতি পদ্ধতিতে সরবরাহের ক্ষেত্রে: বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক আমদানি পরবর্তী প্রথম সরবরাহের সময় মূল্য সংযোজনের হার ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশের অধিক না হলে, প্রকৃত সংযোজনের ভিত্তিতে আইনের ধারা ১৫ এবং ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (৫) এবং বিধিমালার বিধি ২১ এর বিধান মোতাবেক এবং আইনের ধারা ৪৬ এর শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে রেয়াতি পদ্ধতিতে ১৫% হারে মূসক পরিশোধ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তিনি আমদানিকালে পরিশোধিত ১৫% মূসক রেয়াত গ্রহণ ও ৭.৫% আগাম কর সমন্বয় করতে পারবেন।
(ঘ) আমদানিকৃত পণ্য প্রথম সরবরাহে অব্যাহতিপ্রাপ্ত হলে
ব্যবসায়ী পর্যায়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত অর্থাৎ আমদানিকৃত পণ্য প্রথম সরবরাহের সময় মূসক অব্যাহতি থাকলে, আমদানিকালে পরিশোধিত ৭.৫% আগাম কর আমদানি পরবর্তী ছয়টি কর মেয়াদের মধ্যে দাখিলপত্রের মাধ্যমে হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঋণাত্মক নীট প্রদেয় করের ক্ষেত্রে পাওনা সাপেক্ষে আইনের ধারা ৬৮ বা ৬৯ এর বিধান পরিপালন সাপেক্ষে ফেরত গ্রহণ করতে পারবেন।
২. আমদানির পর প্রথম সরবরাহ গ্রহণকারীর ক্ষেত্রে করণীয়:
আমদানির পর প্রথম সরবরাহ বা প্রথম বিক্রয়কারীর কাছে যিনি ক্রয় করবেন, তিনি ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক সংক্রান্ত সাধারণ বিধি-বিধান পরিপালন করে বিক্রয় করবেন। তিনি যদি ১৫% উৎপাদন কর পরিশোধ করে বিক্রয় করেন এবং রেয়াত সংক্রান্ত আইনের ধারা ৪৬ ও অন্যান্য বিধি-বিধান পরিপালন করেন, তাহলে তার ক্রয় চালানপত্রের (মূসক-৬.৩) কলাম (১০) এ উল্লিখিত মূসক পরিমাণ রেয়াত গ্রহণ করতে পারবেন। পরবর্তী ক্রেতার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী পর্যায়ের সাধারণ বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।
৩. মূসক আদায়, হিসাব রক্ষণ, ইত্যাদি:
বাণিজ্যিক আমদানিকারককে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ, কর চালানপত্র ইস্যু ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য দাখিলপত্রে প্রদর্শন করতে হবে।
(ক) হিসাব সংরক্ষণ ও কর চালানপত্র ইস্যু
বাণিজ্যিক আমদানিকারককে আমদানির তথ্য সমন্বিত ক্রয়-বিক্রয় হিসাব পুস্তক 'মূসক-৬.২.১' এ যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি সরবরাহের বিপরীতে 'মূসক-৬.৩' এ কর চালানপত্র ইস্যু করতে হবে।
(খ) দাখিলপত্রে আমদানির তথ্য প্রদর্শন
আগাম কর চূড়ান্ত হিসাবপূর্বক (Final Settlement) সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে প্রতি কর মেয়াদের দাখিলপত্র 'মূসক-৯.১' এর অংশ-৩: উৎপাদ কর এর নোট-৮ এ সরবরাহের তথ্য এবং অংশ-৪: উপকরণ ক্রয় অংশের নোট ২২ এ আমদানির তথ্য এন্ট্রি করতে হবে।