09/08/2025
ই রিটার্ন অডিটের প্রস্ততি নিন, সাবধান হোন
ই-রিটার্ন (E-return) অডিট মূলত ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আপনার জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নের সঠিকতা যাচাই করার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী, এটি ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ (NBR) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এইভাবে চলে—
১. প্রাথমিক বাছাই (Risk-based Selection)
• NBR-এর সিস্টেমে সব ই-রিটার্ন স্ক্যান করা হয়।
• যেসব রিটার্নে সন্দেহজনক বিষয় থাকে (যেমন হঠাৎ বড় আয়ের বৃদ্ধি, খরচ ও আয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য, নির্দিষ্ট সেক্টরের রিটার্ন ইত্যাদি) সেগুলো অডিট লিস্টে চলে যায়।
• বাছাই প্রক্রিয়া এলোমেলো (random) ও ঝুঁকিভিত্তিক (risk-based) — দুইভাবে হতে পারে।
২. নোটিশ প্রদান
• যদি আপনার রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়, তাহলে অডিট নোটিশ (সাধারণত ৬ মাসের মধ্যে) ই-মেইল, ডাক বা NBR-এর e-return পোর্টালে দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা থাকবে:
• কোন বিষয় যাচাই হবে
• কী কী ডকুমেন্ট দিতে হবে
• কোন তারিখে বা কোথায় হাজির হতে হবে।
৩. ডকুমেন্ট যাচাই
NBR ট্যাক্স অফিসার আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে নিম্নোক্ত প্রমাণ মিলিয়ে দেখবে—
• ব্যাংক স্টেটমেন্ট
• বেতন বা ব্যবসার আয় সংক্রান্ত কাগজপত্র
• সম্পত্তি ও বিনিয়োগের দলিল
• খরচের প্রমাণ (যেমন মেডিকেল, শিক্ষা, হাউস রেন্ট, ডোনেশন ইত্যাদি)
• পূর্ববর্তী বছরের রিটার্ন।
৪. মৌখিক শুনানি বা সাক্ষাৎকার
• ট্যাক্স অফিসার আপনাকে বা আপনার প্রতিনিধি (CA/Tax Lawyer) কে ডেকে প্রশ্ন করতে পারেন।
• অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে আপনাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৫. অডিট রিপোর্ট ও অ্যাডজাস্টমেন্ট
যদি হিসাব সঠিক হয় — অডিট ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
ভুল বা গোপন তথ্য পাওয়া গেলে:
• বাড়তি কর (additional tax) ধার্য করা হবে
• জরিমানা বা সুদ যোগ হতে পারে
• গুরুতর ক্ষেত্রে কর ফাঁকি মামলা হতে পারে।
৬. আপিলের সুযোগ
• আপনি NBR-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্যাক্স আপিল ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
💡 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
• ই-রিটার্ন দেওয়ার সময় সঠিক তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
• কমপক্ষে ৫ বছর যাবত রিটার্নের সাথে সম্পর্কিত সকল ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে হবে।
• কর পরামর্শকের সাহায্য নিলে ভুলের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
ই-রিটার্ন অডিটে NBR সাধারণত যে বিষয়গুলো বেশি খতিয়ে দেখে, তার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে দিলাম—
NBR যেসব বিষয় বেশি যাচাই করে:
১. আয় সংক্রান্ত অসামঞ্জস্য:
• বেতন, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্স, ভাড়া, সুদ, লভ্যাংশ, পুঁজিগত লাভ ইত্যাদির ঘোষিত পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কম বা বেশি।
• ব্যাংক স্টেটমেন্টে জমা টাকার সাথে রিটার্নে ঘোষিত আয়ের মিল না থাকা।
• পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় হঠাৎ আয়ে বড় পরিবর্তন।
২. খরচ ও ছাড় (Deductions & Exemptions)
• মেডিকেল, শিক্ষা, দান (donation), হাউস রেন্ট, বিনিয়োগ ইত্যাদিতে অস্বাভাবিক বা সর্বোচ্চ সীমার ছাড় দাবি।
• ছাড় বা করমুক্ত আয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকা।
• প্রমাণপত্র জাল বা অবৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত।
৩. সম্পদ বিবরণী (Statement of Assets & Liabilities)
• ঘোষিত সম্পদের সাথে আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য।
• নতুন সম্পত্তি, গাড়ি, শেয়ার, জমি কেনার উৎস।
• ঘোষিত দায় (loan) এর প্রমাণ।
৪. ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন:
• ব্যাংক একাউন্টে বড় অংকের জমা বা উত্তোলন যার ব্যাখ্যা নেই।
• একাধিক ব্যাংক একাউন্টে অস্পষ্ট লেনদেন।
• বিদেশি লেনদেন (inward/outward remittance) এর সঠিক ঘোষণা।
৫. বিনিয়োগ ও শেয়ার লেনদেন:
• শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বিনিয়োগের তথ্য।
• পুঁজিগত লাভ (capital gain) ঘোষণা না করা।
• বিনিয়োগের উৎসের অসামঞ্জস্য।
৬. বিদেশি আয় ও সম্পদ
• বিদেশি চাকরি, ফ্রিল্যান্স, অনলাইন ব্যবসা বা বিনিয়োগ থেকে আয় ঘোষণা না করা।
• বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন।
• বিদেশি ভ্রমণ ও তার খরচের উৎস।
৭. ভ্যাট, উৎসে কর ও TDS:
• ব্যবসার ক্ষেত্রে VAT ও উৎসে কর সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না।
• উৎসে কর কেটে রাখা হলেও রিটার্নে ঠিকভাবে সমন্বয় না করা।
৮. পুরোনো রিটার্নের সাথে অসঙ্গতি:
• গত বছরের আয়ের, সম্পদের, দায়ের সাথে চলতি বছরের তথ্যের বড় পার্থক্য।
• পূর্বে করা অডিটের পর্যবেক্ষণ সমাধান না করা।
💡 টিপস:
• সব আয়, খরচ, বিনিয়োগ ও সম্পদের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন।
• বড় লেনদেনের আগে তার ট্যাক্স ইমপ্লিকেশন বুঝে নিন।
• রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগ সার্টিফিকেট, ভাড়া চুক্তি, রসিদ—সব কপি রেখে দিন।
** কম্পিউটারের দোকান থেকে আয়কর ই রিটার্ণ জমা না দেয়া উচিৎ হবে। ই রিটার্ণ অডিট হবে বৈজ্ঞানিক ও এআই দিয়ে সিলেকশন করে। প্রস্তুত হোন, সাবধান হোন, সচেতন হোন।
*Collected Post
Send a message to learn more