10/03/2026
'ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে"; "ভারতের কাছে জ্বালানি সহায়তা চাইল বাংলাদেশ!" শিরোনামে খবর করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এমনভাবে ফ্রেমিং করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, ভারতের কাছ থেকে মাগনায় ডিজেল নিচ্ছে।
প্রকৃত ঘটনা হলো, দুই দেশের চুক্তিতে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যে বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন চালু হয়েছে, তা অনুযায়ী বাংলাদেশের কাছে ভারত প্রথম তিন বছর বছরে দুই লাখ টন, পরের তিন বছর তিন লাখ টন, পরবর্তী চার বছর পাঁচ লাখ টন এবং এরপর প্রতি বছর ১০ লাখ টন করে ডিজেল বিক্রি করবে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী দাম দেবে।
বাংলাদেশ ভারত থেকে যে ডিজেল কেনে, তা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা ক্রুড ওয়েল রিফাইন করে উৎপাদিত নয়।
ভারতের আসামে তেলের খনি আছে। সেখনকার ক্রুড ওয়েল রিফাইন করে, ভারত পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ডিজেল চাহিদা মেটায়। এই ডিজেল সড়ক পথে পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণ ভারতে নেওয়া ব্যাপক ব্যয় বহুল। তাই ভারতকে মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আর আসামের তেল দিয়ে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটানে রপ্তানি করে।
এখানে সহায়তা খয়রাতের কিছু নেই। ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণে ভারত ৭৫ শতাংশ ব্যয় দিয়েছিল, বাংলাদেশে ডিজেল রপ্তানি করতে।
পাইপলাইনটির সমালোচনা করা হয়েছিল, কারণ সেই সময়ে প্রিমিয়াম (প্রতি ব্যারেলের পরিবহন খরচ) ধরা হয়েছিল ৫.৫ ডলার ধরা হয়েছে। কারণ, পাইপলাইনে পরিবহন ব্যয় শূন্য হওয়ার কথা। কিন্তু ভারত পাইপ লাইন নির্মাণের ব্যয় ধরে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাংলাদেশ যে ডিজেল কেনে, তার প্রিমিয়াম ২.৫ ডলার।
পরিবহন ব্যয়ের কারণে আসামের ডিজেল ভারতের অন্যান্য অংশে পরিবহনের চেয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি করা দেশটির জন্য লাভজনক। আর আন্তর্জাতিক বাজার দরে দাম দিতে হলেও, প্রিমিয়াম বেশি হলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে অপ্রতুলনতার কারণে, এখন ভারত থেকে কেনা লাভজনক। উইন উইন সিচুয়েশন উভয়ের জন্য।
বাংলাদেশ গত জানুয়ারিতেও ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কিনেছে চুক্তি অনুযায়ী। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৭৯ হাজার টন কিনেছে। কিন্তু কড়কড়া ডলার খরচ করে কেনা ডিজেলকে 'ভারতের কাছ থেকে জ্বালানি সহায়তা' বলে ফ্রেমিং করা হচ্ছে। যেন মাগনা দিচ্ছে।