07/09/2024
সরকারের প্রতি প্রচলিত ইসলামী রাজনীতি দলসমূহের প্রস্তাবনা কেমন হওয়া উচিত?
--
কিছু দিন আগে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের গোল টেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয়। রাজনৈতিক কোনও ব্যানারে আলোচনায় অংশগ্রহণের এটিই প্রথম অভিজ্ঞতা। এক ভাইয়ের অনুরোধে অংশগ্রহণ করি।
বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের কী কী প্রত্যাশা, দাবি, সেগুলো প্রথমে লিখিতভাবে পাঠ করা হয়। এরপর উপস্থিত যারা, তাদের থেকে উন্মুক্ত মত নেয়া হয়।
দেখলাম, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যেসব প্রস্তাবনা থাকে, প্রায় সেগুলোই এখানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। যেসব বিষয়ে অন্যারা কথা বলেন না, সেগুলো এখানেও অনুপস্থিত। কয়েকটি উদাহরণ দেই-
ক. বাংলাদেশে হালাল ফুড নিশ্চিত করা। বিদেশ থেকে কোনও ফুড আসতে হলে তা হালাল সার্টিফাইড হতে হবে। দেশীয় উৎপাদক হালাল সার্টিফাইড হতে হবে। এর আগে দেশের সার্টিফায়ার বডি সুদৃঢ় করা।
খ. ওয়াকফ প্রশাসনকে শুধু চাঁদা গ্রহণকারীর ভূমিকায় না রেখে ওয়াকফ খাত বিস্তৃত ও দখলকৃত ওয়াকফ সম্পদ পুনরুদ্ধারের ভূমিকায় নিয়ে আসা।
গ. ব্লাসফেমি, ধর্ম অবমাননা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অনুরূপ আচরণ'কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা ।
এগুলো এমন এমন খাত, যেগুলো নিয়ে সাধারণত অন্যরা খুব একটা কথা বলেন না। এরকম আরও আছে। এখানে সব লিখতে গেলে তালিকা বড় হয়ে যাবে।
ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর এগুলো নিয়ে গবেষণা ও পরিকল্পনা করার জন্য স্বতন্ত্র রিসার্চ ইউনিট থাকা দরকার।
শুধু মুখে মুখে খিলাফত কায়েম করে ফেলবো বললে তো হবে না। ইন্টেলেকচুয়াল গ্রাউন্ড তৈরি করতে হবে।
আজকে যদি আপনাকে অর্থনীতির দায়িত্ব দেয়া হয়, আপনি কি ফরেইন ডেট এর সুদমুক্ত বিকল্প দেখাতে পারবেন? এর জন্য কি প্রয়োজনীয় গবেষণা আপনাদের আছে?
এই যে এখন ব্যাংকগুলোর লিকিউডিটি ক্রাইসিস চলছে, এর সমাধানে ইসলামী রূপরেখা কী হতে পারে?
অর্থনীতির সামগ্রিক সংস্কার করা ছাড়া কি একটি দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব? সেই গবেষণা কি আমাদের দৃশ্যমাণ?
দেশের প্রতিটি সেক্টর নিয়ে স্বতন্ত্র, যৌক্তিক প্রস্তাবনা তৈরি করুন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য খাত, সামাজিক খাথ, শিক্ষা খাত, ধর্ম, ব্যবসা, মাদরাসা ইত্যাদি। এগুলো এক দিনে হয় না। দীর্ঘ গবেষণা থাকতে হয়। নানা ঘরনার সাথে মতবিনময় করতে হয়। তাহলেই যৌক্তিক প্রস্তাবনা দেয়া যায়।
বামরা এদিক থেকে অনেক এগিয়ে। একটি উদাহরণ দেই, গত ২০২২ এ গণকমিশন একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল। নাম ছিল-“বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন”।
আপনি ধারণা করতে পারবেন এর পৃ. সংখ্যা কতো ছিল? ১০৪০ পৃ.। জি ঠিকই পড়ছেন। এক হাজার চল্লিশ পৃ.।
আরেকটি উদাহরণ নিন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কোভিডের পর পর বাংলাদেশ নিয়ে পুরো অর্থনীতির রূপরেখা প্রকাশ করেছিল। বইটির নাম ছিল-“বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র, ভাইরাসের মহা বিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে”।
এর পৃ. সংখ্যা: ৬৬০। পুরো কভিড জোরে তারা বাসায় বসে বসে এই অর্থনীতির রূপরেখা তৈরি করেছে। পূঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র বাদ দিয়ে নতুন একটি তত্ত্ব উদ্ভবের দাবি করেছিল তারা।
এবার বলুন-আমাদের প্রস্তুতিগুলো কেমন? আমরা একটি বাংলাদেশের বাজেট রূপরেখা নিয়ে একটি বাস্তবধর্মী গবেষণা বের করতে পেরেছি?
বস্তুত প্রচলিত ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহের মাঝে ব্যাপকভাবে গবেষণার অভাব। আমার মনে হয়-এ বিষয়ে উচ্চ নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি দেয়া দরকার।
অন্তত অর্থনীতি নিয়ে যেকোনও গবেষণা, কাজে আমরা সব সময় খেদমত করতে প্রস্তুত।