08/09/2025
আলহামদুলিল্লাহ ফাইনালি ঢাকা থেকে মরক্কোর 🇲🇦 স্টিকার ভিসা পেলাম। কিভাবে, কতদিনে পেলাম...? চলুন জেনে নেয়া যাক....
✍️ আমি যে সকল ডকুমেন্ট জমা দিয়েছিলাম তা নিচে উল্লেখ করলাম।
আপনাকেও হুবহু এগুলো দিতে হবে এমন না, আপনার প্রোফাইল অনুযায়ী যা দরকার তাই জমা দেবেন। তাদের চেকলিস্ট মোটামুটি কমন থাকে, অনেকটা থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার ভিসার মতই।
আমার জব প্রোফাইল অনুযায়ী আমি যা যা জমা দিয়েছি সেগুলো শেয়ার করলাম। ✅
✅ ভিসা ফর্ম + পাসপোর্ট ছবি (35×45mm, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড - ম্যাট পেপার )
✅ জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন (নোটারাইজড)
✅ ব্যাংক স্টেটমেন্ট + সলভেন্সি সার্টিফিকেট (9.5 লাখ)
✅ অফিস NOC, সেলারি সার্টিফিকেট ও শেষ ৬ মাসের পে স্লিপ
✅ অফিস আইডি + ভিজিটিং কার্ড
✅ পূর্বের ভিসা কপি (E-visa + Sticker)
✅ টিন ও ট্যাক্স রিটার্ন (শেষ ৩ বছর)
✅ ট্রাভেল হিস্ট্রি (১৯টি দেশ)
✅ ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং
✅ কভার লেটার ও ট্রাভেল আইটিনারি
✅ অতিরিক্ত ডকুমেন্ট: বিবাহ সনদ, পরিবারের সনদ, বিভিন্ন সংগঠনের ও ক্লাবের সদস্যপদ সনদ ( নোটারাইজড )
🕒 প্রসেসিং টাইম পাসপোর্ট জমা দেয়ার পর
২১ কর্ম দিবস। কিন্তু এভারেজ ১ মাস সময় লাগে।
(আমার ৪২ কর্মদিবস প্রায় ২ মাস লেগেছে)
💳 ভিসা ফি
BDT ৮.৭০০ (শুধু ভিসা হলে দিতে হয়, ক্যাশে)
(আমি ঢাকার বাইরে থাকায় আমার সব মিলিয়ে ২৫,০০০/- টাকা খরচ হয়েছে)
📍 ভিসা জমা দেওয়ার নিয়ম
• কোনো এপয়েন্টমেন্ট লাগে না
• শুক্রবার/শনিবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া জমা দেয়া যায়
• জমা দিলে কোনো স্লিপ বা ট্র্যাকিং সিস্টেম নেই
• সাধারণত ১ মাসের বেশি সময় লাগে
• ভিসা ইস্যুর তারিখ ধরা হয় ফ্লাইট বুকিং ডেট থেকে
• ভিসা ৩ মাসের হলেও স্টে পারমিট দেয় ১০/১৫/৩০ দিন (আইটিনারি অনুযায়ী) আমাকে ১৫ দিনের ভিসা দেওয়া হয়েছে, কারণ আমি ১০ দিনের ট্রাভেল প্ল্যান জমা দিয়েছিলাম।
🏛️ এম্বাসি লোকেশন
বারিধারা ৯ নাম্বার রোড, মিয়ানমার এম্বাসির পাশে।
⚠️ আশেপাশে কোনো বিকাশ/ATM নেই → ভিসা ফি ক্যাশ নিতে হবে। জমা সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা, আর ডেলিভারি দুপুর ১২টার পর দেয়া হয়।
✈️ ঢাকা থেকে মরোক্কো ফ্লাইট
সাধারণত কাসাব্লাঙ্কা রুটে ১ স্টপ ফ্লাইট পাওয়া যায়।
রিটার্ন টিকিট জন প্রতি প্রায় ১ লাখ ১৫ থেকে ২০ হাজার।
মরোক্কো কেন যাবেন❓
🌍 মরোক্কো পরিচিতি...
মরোক্কোকে বলা হয় ইউরোপের প্রবেশপথ, মরক্কো আর স্পেন এর দুরত্ব মাত্র ১৬ কি.মি.। মরোক্কো উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত। উত্তরদিকে আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর, পশ্চিমে আলজেরিয়ার সীমান্ত আর দক্ষিণে বিস্তীর্ণ সাহারা মরুভূমি।
মারাকেশের রঙিন সুক, শেফশাওয়েনের নীল শহর আর বিস্তীর্ণ সাহারা মরুভূমি এক দেশে পাহাড়, সমুদ্র আর মরুভূমির অসাধারণ মিশেল। ইউনেস্কো হেরিটেজ শহর ফেস, রাবাত আর মেকনেস আপনাকে নিয়ে যাবে ইতিহাসের গভীরে।
💰 অর্থনীতি
মরোক্কোর অর্থনীতি মূলত কৃষি 🌾, পর্যটন 🏨, খনিজ (ফসফেট) ⛏️ এবং হালকা শিল্প 🏭-এর উপর নির্ভর। দেশী খাবার, হোটেল ও ট্রান্সপোর্ট তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায় 💵। মুদ্রা: মরোক্কো দিরহাম (MAD)
✈️ প্রধান ভ্রমণস্থান
• মারাকেশ: রঙিন বাজার, জেল্লা ফনা স্কোয়ার 🏙️
• শেফশাওয়েন (ব্লু সিটি) 💙
• ফেস: মধ্যযুগীয় আর্কিটেকচার 🏰
• রাবাত: রাজধানী, সমুদ্র উপকূল 🌊
• মেকনেস: ঐতিহাসিক দরজা ও রাজপ্রাসাদ
• সাহারা মরুভূমি: ক্যাম্পিং, উট ভ্রমণ 🐪
• আগাদির, এসাওইরা: সমুদ্র সৈকত 🏖️
ভ্রমণ খরচ 💰
বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য (২ জনের ট্যুর) প্রতিজন দিনে প্রায় ২৫ থেকে থেকে ৩০ ইউরো যথেষ্ট।
➡️ ৭ দিনের জন্য দুই জনের আনুমানিক বাজেট:
ফ্লাইট: প্রায় ১.১৫–১.২০ লাখ টাকা।
হোটেল, খাবার ও ট্রান্সপোর্ট ও এন্ট্রি ফি বাজেট মুডে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে দুই জনের এক সপ্তাহের মরোক্কো ট্রিপের খরচ দাঁড়ায় বাজেট ট্রিপে জন প্রতি প্রায় ২ লাখ টাকা।
যাদের মুটামুটি ভালো ট্রাভেল হিস্ট্রি আছে তারা এপ্লাই করতে পারেন।গাল্ফ + ইজিপ্ট ভ্রমণ না করে
ভিজিট ভিসার জন্য এপ্লাই না করাই উত্তম।
লিখেছেনঃ- নুর ই আলম নিপু।