09/10/2021
কথাগুলো বাস্তব...
আর্মিতে কমিশন র্যাংক হোক বা রিক্রুট, প্রথম কাজ হচ্ছে চুলটা এমনভাবে ছাঁটা যাতে মনের ভিতর যত শাহরুখ খান আছে তা ডে ওয়ানেই ভ্যানিশ হয়ে যায়।
২০০৫ এ যখন মেডিকেলে ভর্তি হই তখন শ্রদ্ধেয় মুহসীন খলীল স্যার ছিলেন আমাদের ছেলেদের চুলের পরিদর্শক। স্যারের মনমত না হওয়া পর্যন্ত নিস্তার নাই।
ইভেন একদিন কার্ড ফাইনাল এক্সামের রিটেন চলছিল, একজনের চুল বড় দেখে তাকে বলে দিলেন এক্সাম রেখে চুল কেটে আস। আমার সেই ব্যাচমেট চুল কেটে এসে বাকি এক্সাম দিয়েছে।
সার্জারি ডিপার্টমেন্টের আব্দুল গফুর স্যার একবার ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে দেখেন মেয়েরা বারান্দার রেলিংয়ের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিল, ওভাবে রেলিংয়ে বসাটা বিপজ্জনক। স্যার ওই মাথা থেকে হুংকার দিতেই পড়িমরি করে পালিয়েছে সবাই।
একবার স্কুল লাইফে এক ছেলে চিপা একটা প্যান্ট পরে আসছিল। ম্যাডাম বললেন দর্জি কি কাপড় তোমার গায়ে রেখে সেলাই করেছে?
২০২১ এ এসে আমি ভাবতে বসি, আমি কি এই কাজ করতে পারব?
মনে হল না পারব। কারণ এখন ঠিক কেমন যেন একটা অদ্ভুৎ সেন্টিমেন্ট নিয়ে চলে সবাই। চুল, পোষাক সবই এখন পার্সোনাল চয়েজ। এটা নিয়ে কথা বললে একদল এসে হামলে পড়বে। বলবে আপনার কাজ আপনার সাবজেক্ট ভালভাবে পড়ানো, সেটাই করেন। অন্য বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার কে দিল।
শিক্ষকের মর্যাদা কবিতাটা এখন মেবি আর সিলেবাসে নেই। আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুমই শিক্ষার বস্তু।
শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর কথাটা এখন মেবি খাটে না। বাবা মায়ের পর শিক্ষকের স্থান কথাটাও মেবি আর লজিকাল না, কারণ শিক্ষকের সেই গ্রাউন্ডটা এখন আর নেই যে একটা ছাত্র বা ছাত্রীর বেশভূষা বা চলাফেরা নিয়ে সংশোধনমূলক কথা বলবে বা শাসন করবে।
আমরা শিক্ষকরা এখন আর মানুষ গড়ার কারিগর নই। আমরা জাস্ট শিক্ষা নামক সার্ভিস/প্রডাক্টের সাপ্লায়ার মাত্র।