24/08/2024
শ্লোগানের বৈচিত্রতা থেকে শিক্ষনীয় ধ্যান-ধারনা!
“নিশ্চয়ই অল্লাহ ধৈর্য্যধারনকারীকে পছন্দ করেন!
2024 এর জুলাই-আগস্ট মাসের গন আন্দোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শ্লোগান নিয়ে কিছু লেখা, এটা কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ নয়। এখানেও শিক্ষনীয় বিষয় লুকিয়ে আছে।
চলুন তাহলে দেখি সেইদিনগুলির শ্লোগানগুলি কি কি ছিলো এবং তার প্রভাবই বা কেমন ছিলো!
স্লোগান একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সময়কেই শুধু তুলে ধরে না, এটি সংস্কৃতির পথরেখাও দেখায়। স্লোগানের গতিবিধি দেখে আপনি রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেকাংশে অনুমান করতে পারবেন। সত্যি বলতে, স্লোগানগুলো দেখেই জুলাই অভ্যুত্থানের টাইমলাইন বা সময়রেখা বুঝে ফেলা সম্ভব। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি মানুষের আকাঙ্ক্ষায় কী রকম বদল ঘটে, তার একধরনের কালপঞ্জি স্লোগানেও প্রতিফলিত হয়। কোটা সংস্কারের দাবি থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিতে নিতে বদলে গেছে আন্দোলনের দাবি, মিছিলের স্লোগান ও অভ্যুত্থানের ভাষা।
যেমন আন্দোলনের শুরুর দিকে দেখেছি,
‘কোটা না মেধা? মেধা, মেধা’
কিংবা
‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’–এর মতো স্লোগান।
ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষের জবাবের উত্তরে শ্লোগানেরও আপডেট ভারসন আমরা দেখতে পাইঃ
‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার।
কে বলেছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’।
কিংবা
‘চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’!
আবারঃ
‘লাখো শহীদের দামে কেনা/ দেশটা কারও বাপের না’।
‘স্বৈরাচার, স্বৈরাচার/ এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’।
পক্ষ-প্রতিপক্ষের পাল্টা-পাল্টি শ্লোগানঃ
‘আছিস যত রাজাকার/ এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’–এর পাল্টা স্লোগান দেখেছি ‘স্বৈরাচার, স্বৈরাচার/ এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’।
কিংবা আওয়ামী লীগের ‘জনে জনে খবর দে/ এক দফা কবর দে’র পাল্টা স্লোগান ‘জনে জনে খবর দে/ ছাত্রলীগের কবর দে’।
পরবর্তীতেঃ ঘটনাক্রমে ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকেঃ
‘আমার খায়, আমার পরে,/ আমার বুকেই গুলি করে’।
‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়/ বুক পেতেছি গুলি কর’–এর মতো স্লোগান।
‘তোর কোটা তুই নে,/ আমার ভাই ফিরিয়ে দে’ কিংবা ‘লাশের ভিতর জীবন দে/ নইলে গদি ছেড়ে দে’।
‘তুমি কে? আমি কে?/ বিকল্প, বিকল্প’
‘আপস না সংগ্রাম?/ সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘দালালি না রাজপথ?/ রাজপথ, রাজপথ’।
‘কে এসেছে? কে এসেছে?/ পুলিশ এসেছে।/ কী করছে? কী করছে?/ স্বৈরাচারের পা চাটছে’।
‘এক দুই তিন চার,/ শেখ হাসিনা, গদি ছাড়’, ‘দফা এক দাবি এক,/ শেখ হাসিনার পদত্যাগ’
কিংবা ‘এক দফা, এক দাবি/ স্বৈরাচার তুই কবে যাবি’।
৪ আগস্ট শহীদ মিনার থেকে আন্দোলনকারীরা গণভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে লংমার্চের ডাক দেন। সর্বস্তরের জনমানুষের মধ্যেও প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। জনতাকে ঢাকায় আসার আহ্বান স্পষ্ট হতে শুরু করে স্লোগানে,
‘ঢাকায় আসো জনতা,/ ছাড়তে হবে ক্ষমতা’।
৫ আগস্ট সকাল থেকেই হাসিনার পালানোর গুজব ছড়াতে শুরু করে। উল্লসিত জনতা স্লোগান দেয়,
‘পালাইছে রে পালাইছে,/ হাসিনা পালাইছে’।
বিকেলের মধ্যেই এই স্লোগান বাস্তব সত্যে রূপ নেয়।
জেন–জির অভ্যুত্থান বলেই হয়তো জুলাই অভ্যুত্থানে স্লোগানের বৈচিত্র্য এবার ছিল অনেক। আন্দোলনে দেখা গেছে,
‘এক দফা দাবি এক/ কোটা নট কামব্যাক’–এর মতো স্লোগান,
যেখানে কোড সুইচিংয়ের ব্যবহার ছিল। কিংবা অনেক স্লোগানের মধ্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার একটা স্লোগানও তুমুল জনপ্রিয়তা পায়,
‘আঁর ন হাঁইয়্যে,/ বৌতদিন হাঁইয়্য’ (আর খেয়ো না,/ অনেক দিন খেয়েছ)।
উপরের শ্লোগানের যে ধারাবাহিকতা দেখা যায় সেটা খুবই সুক্ষ ও অর্গানইজ।
সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তনশীল।
Zaman
[email protected]
সংগৃহীতঃ
দৈনিক প্রথম আলো, 22 আগস্ট 2024
বিদ্রোহে–বিপ্লবে
জাগরণ, স্লোগানে স্লোগানে
ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শামিল হয়েছিল কবিতা, গান, র্যাপ, পোস্টার, কার্টুন আর গ্রাফিতি। এই বিদ্রোহ ও বিপ্লবের ভাষায় ধরা আন্দোলনের মর্মকথা নিয়ে সচিত্র দলিল বিদ্রোহে–বিপ্লবে
কে এম রাকিব
আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৪, ১৭: ৪২
https://www.prothomalo.com/onnoalo/znx8mjyqao