03/11/2025
📢আয়কর অডিট নিয়ে বিভ্রান্তি!
রিসেন্টলি “অডিট” নিয়ে অনেকের মধ্যে কনফিউশন তৈরি হয়েছে —
বিশেষ করে এখন যেহেতু ট্যাক্স অফিস বিভিন্ন ধারায় করদাতাদের চিঠি দিচ্ছে,
যারা আইন জানেন না তারা অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।
অনেকের ধারণা, ফাইল শুধু একবারই র্যান্ডম অডিটে পড়তে পারে,
এর বাইরে কর অফিস থেকে আর কোনোভাবে অডিট বা যাচাই করা হয় না।
চলুন দেখে নেই —
রিটার্ন সাবমিটের পর ৩ ধাপে ফাইল যাচাই বা অডিট হয়, আর শেষে কর নির্ধারণ হয়।
(বুঝতে পারার সুবিধার্থে ট্যাক্স অফিসের দেওয়া চিঠি সংযুক্ত করা হলো)
রিটার্ন সাবমিটের পর — ৩ ধাপে যাচাই/অডিট হয়
১️। রিটার্ন প্রসেস (প্রাথমিক যাচাই) — ধারা ১৮১
📍 কখন হয়:
যখন করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন, তখন উপকর কমিশনার রিটার্নটি পাওয়ার পর প্রথমে সেটি গাণিতিক ও তথ্যগতভাবে যাচাই করেন।
🔹 কী হয়:
যদি রিটার্নে কোনো গাণিতিক ভুল, অসঙ্গতি বা ভুল দাবি ধরা পড়ে, উপকর কমিশনার তা সংশোধন করে প্রদেয় বা ফেরতযোগ্য কর নির্ধারণ করেন এবং করদাতাকে নোটিশ করেন।
🔹 আপনার করণীয়:
নোটিশ পেলে শুনানিতে অংশগ্রহন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকোমেন্টস দিন।
🔹 যদি না মানেন:
তাহলে উপকর কমিশনার পরবর্তী ধাপে কর নির্ধারণ (ধারা ১৮৩ বা ১৮৪) করতে পারেন।
📌 (এই ধাপটি হয় রিটার্ন সাবমিটের পরই, র্যান্ডম সিলেকশন ছাড়াই।)
________________________________________
২️। অডিট (র্যান্ডম ভিত্তিক নির্বাচন) — ধারা ১৮২
📍 কখন হয়:
রিটার্ন সাবমিটের পর বোর্ডের (NBR) নির্দেশনা অনুযায়ী র্যান্ডমভাবে কিছু ফাইল অডিটের জন্য বেছে নেওয়া হয়। রিটার্ন দাখিল করা করবর্ষের পরবর্তী ২ করবর্ষের মধ্যে অডিট নির্বাচন ও অনুমোদন করা হয়।
🔹 কী হয়:
যদি আপনার ফাইল র্যান্ডম অডিটে পড়ে, তাহলে উপকর কমিশনার আপনাকে জানিয়ে ফাইল পর্যালোচনা করেন —
রিটার্নে প্রদর্শিত আয়, ব্যয় ও পরিসম্পদ সঠিক আছে কি না তা যাচাই করেন।
🔹 আপনার করণীয়:
নোটিশ পেলে সময়মতো কাগজপত্র, প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দিন, প্রয়োজনে সংশোধিত রিটার্ন ও কর পরিশোধ করুন।
🔹 যদি না মানেন:
তাহলে উপকর কমিশনার পরবর্তী ধাপে কর নির্ধারণ (ধারা ১৮৩ বা ১৮৪) করতে পারেন।
📌 (অর্থাৎ, রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ২ বছরের মধ্যেই অডিটে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।)
________________________________________
৩️। ফাইল রিওপেন (কর ফাঁকি বা আয় গোপন ধরা পড়লে) — ধারা ২১২
📍 কখন হয়:
যখন পরবর্তীতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে করদাতা —
• আয় গোপন করেছেন,
• আয় কম দেখিয়েছেন,
• অতিরিক্ত ছাড়, অব্যাহতি বা লোকসান দেখিয়েছেন,
• ভুল তথ্য দিয়ে কর দায় কমিয়েছেন,
অর্থাৎ কর পরিশোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
যদি কোনো রিটার্ন না দেওয়া থাকে ➤ যেকোনো সময় নোটিশ দেওয়া যাবে।
যদি রিটার্ন বা কর নির্ধারণ হয়ে থাকে ➤ সর্বোচ্চ ৬ করবর্ষ পেছনে গিয়েও ফাইল রিওপেন করা যায়।
🔹 কী হয়:
উপকর কমিশনার সেই করবর্ষের ফাইল পুনরায় খুলতে পারে এবং করদাতাকে নোটিশ পাঠিয়ে রিটার্ন ও দলিলাদি দাখিল ও বকেয়া কর পরিশোধ করতে বলেন।
🔹 আপনার করণীয়:
নোটিশ পেলে রিটার্ন ও প্রমাণাদি জমা দিন এবং কর পরিশোধ করুন।
🔹 যদি না মানেন:
তাহলে উপকর কমিশনার ধারা ১৮৩ বা ১৮৪ অনুযায়ী কর পুনর্নির্ধারণ করবেন।
📌 (অর্থাৎ, রিটার্ন জমা দিলেও ৬ বছর পর্যন্ত আপনার ফাইল পুনরায় খোলা যেতে পারে।)
________________________________________
📚 বিস্তারিত জানতে আইন দেখুন:
➡️ ধারা ১৮১ — রিটার্ন প্রসেস
➡️ ধারা ১৮২ — অডিট
➡️ ধারা ২১২ — ফাইল রিওপেন
➡️ ধারা ১৮৩ — সাধারণ কর নির্ধারণ
➡️ ধারা ১৮৪ — সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ
________________________________________