21/11/2025
ইনকাম ট্যাক্স আইন ২০২৩–এর ধারা ৩২৭(৩) কেন সংবিধান ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং কেন এটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। রুলে বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী ছাড়া অন্যদেরকে কর আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি কেন অবৈধ হবে না
রিট পিটিশনার আইনজীবী জুয়েল আজাদ এবং শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট তানভির, রাফসান, রইস, রুহুল আমিন, বিপ্লব কুমার, নিশাত মাহমুদসহ আরো অনেকে।
👇
১. রিটকারীদের বক্তব্যে মৌলিক আইনি ভুল রয়েছে (Category Error)।
কর আইনের আওতায় “কর আইনজীবী” (Tax Practitioner) একটি টেকনিক্যাল পেশাগত লাইসেন্স, এটি আদালতে প্র্যাকটিসকারী “Advocate”-এর বিকল্প নয়। কর আইনজীবী = ট্যাক্স রিটার্ন, অ্যাসেসমেন্ট, আপিল, হিসাববিষয়ক কাজ।
এটি বার কাউন্সিল-সনদযুক্ত Advocate এর বিচারিক ক্ষমতা, অধিকার বা আদালতে প্র্যাকটিস-অধিকারকে স্পর্শই করে না।
অতএব এটিকে “আইনজীবী পেশার ওপর আঘাত” বলা যুক্তিগতভাবে ভুল।
২. ইনকাম ট্যাক্স আইন ২০২৩ কোনোভাবেই বার কাউন্সিল আইনকে অকার্যকর করেনি।
আইনজীবী কে?—এটি বার কাউন্সিল আইন নির্ধারণ করে।
কর আইনজীবী কে?—এটি কর আইন নির্ধারণ করে।
দুটি আলাদা জুরিডিকশন।
এগুলোকে অভিন্ন মনে করা একধরনের আইনগত বিভ্রান্তি (Jurisdictional Misinterpretation)।
৩. বিশ্বের কোনও দেশেই ট্যাক্স প্র্যাক্টিস শুধুমাত্র Advocates দ্বারা একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে – CPA, IRS Enrolled Agent
যুক্তরাজ্যে – Chartered Tax Adviser
ভারতে – Tax Practitioner, CA, CMA
সকল দেশেই ট্যাক্স-বিশেষজ্ঞদের আলাদা সার্টিফিকেশন আছে।
বাংলাদেশে একই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়া সম্পূর্ণ যৌক্তিক। এটিকে “আইনজীবীদের মর্যাদা হ্রাস” বলা আত্মকেন্দ্রিক ও তথ্যবিরোধী।
৪. রিটকারীদের যুক্তি সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা।
সংবিধানের
২৮(১) – সমতার অধিকার
৪০– পেশা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা
এই দুই ধারাই স্পষ্টভাবে বলে—রাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পেশার আলাদা লাইসেন্স দিতে পারে।
কর আইনজীবী সনদ এই সাংবিধানিক পেশা-স্বাধীনতারই প্রয়োগ।
এটি কোথাও Advocates-এর অধিকার হরণ করে না।
৫. “Advocate ছাড়া অন্য কারও Tax Representation করার অধিকার নেই”—এ দাবি বাস্তবিকভাবে ভুল।
আয়কর অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল আদালত নয়;
এটি সিভিল কোর্টের আওতায় পড়ে না
এটি একটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি উপস্থিত হতে পারেন—এটি দেশে-বিদেশে স্বীকৃত নীতি।
রিটকারীরা আইনব্যবস্থার এই মৌলিক কাঠামোকে উপেক্ষা করেছেন।
৬. রিটকারী আইনজীবীদের বক্তব্য স্বার্থগত (Self-Serving) এবং পেশাগত মনোপলি তৈরির চেষ্টা।
বার কাউন্সিল-সনদধারীদের হাতে কর প্র্যাক্টিস একচেটিয়া রাখার প্রচেষ্টা পেশাগত মনোপলি/গিল্ড-প্রটেকশনিজম, যা আধুনিক পেশাগত আইন ও অর্থনীতি-তত্ত্বের বিরুদ্ধে।
রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য – দক্ষ কর প্রশাসন, কর আদায় বৃদ্ধি।
আইনজীবীদের উদ্দেশ্য – ট্যাক্স মার্কেট ধরে রাখা।
এই দুইটি এক নয়, এবং রাষ্ট্র সবসময় জনগুরুত্বের নীতি অনুসরণ করবে, পেশাগত লবি নয়।
৭. রিটের লেখায় “মর্যাদা”, “আত্মমর্যাদা”, “সম্মান”—এগুলো আইনি যুক্তি নয়, আবেগী বক্তব্য।
হাইকোর্ট আইনের ভাষা দেখে সিদ্ধান্ত দেয়, আবেগ দেখে নয়।
পেশাগত মর্যাদা সংবিধান বা বার কাউন্সিল আইনের কোনো বিধান নয়—
এটি ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, আইনগত প্রশ্ন নয়।
৮. কর আইনের বিশেষজ্ঞরা (CA/CMA/CS) বরাবরই ট্যাক্সে আইনজীবীদের চেয়ে বেশি দক্ষ—এটি একটি বাস্তবতা।
ট্যাক্স আইন = হিসাববিজ্ঞান + মূল্যায়ন + শুল্ক + রেকর্ড অডিটিং।
Advocate-দের বড় অংশের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেই।
তাই শুধুমাত্র Advocates কে ট্যাক্স প্র্যাক্টিসের একচ্ছত্র অধিকার দেওয়া অযৌক্তিক এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী।
৯. রিটকারীরা মৌলিক প্রশ্নটি উপেক্ষা করেছেন—রাষ্ট্রের অধিকার কতদূর?
সংবিধানের Article 65 রাষ্ট্রকে আইন প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দেয়।
রাষ্ট্র চাইলে—
A ট্যাক্স প্র্যাক্টিস
B কাস্টমস প্র্যাক্টিস
C কোম্পানি ল’ প্র্যাক্টিস
—এগুলোতে আলাদা পেশাজীবী তৈরি করতে পারে।
এটা বার কাউন্সিলের ওপর হস্তক্ষেপ নয়।
১০. রিটের যুক্তিগুলো দুর্বল, আবেগপ্রসূত ও আইনি বাস্তবতা-বর্জিত।
ধারা ৩২৭(৩)
* আইনসঙ্গত,
* আন্তর্জাতিক মানসম্মত,
* প্রশাসনিকভাবে যৌক্তিক,
* সংবিধানসম্মত,
এবং কোনোভাবেই “আইনজীবী পেশা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র” নয়—
বরং ট্যাক্স-সেক্টরে দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয় আধুনিক সংস্কার।
Collected