03/05/2026
➤বায়ন- ২২
বিষয়ঃ স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। (স্ত্রীর অধিকার সমূহ)
ভূমিকাঃ-
হামদ্ ও সালাতের পর...
মুহতারাম হাযিরীন! আজকের আলোচ্য বিষয় হলোঃ স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। এসম্পর্কে সময়ের এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে যতটুকু সম্ভব আলোকপাত করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
মুহতারাম হাযিরীন! আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ لَهُنَّ مِثۡلُ الَّذِیۡ عَلَیۡهِنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ
আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের।
(সূরা বাকারা: ২২৮)
অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ہُنَّ لِبَاسٌ لَّکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ لِبَاسٌ لَّہُنَّ
তারা তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোষাকস্বরূপ। (সূরা বাকারা: ১৮৭)
পোশাক যেমন আমাদের ইজ্জত-সম্মান হেফাযত করে ও আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, ঠান্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করে, স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকাও তেমনি। স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু হবে, একজন আরেকজনকে নেকীর কাজে সাহায্য করবে। এভাবেই একে অপরের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে শুধু দুনিয়াতে নয় বরং আখিরাতেও।
পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল হলেও স্ত্রীর প্রতি স্বামীর রয়েছে ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু বর্তমান সমাজে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা হয়। মনে হয় যেন সংসারে স্ত্রীর কোন মূল্যই নেই, স্বামীর সংসারে মুখ বুজে খেটে যাবার জন্যই তার জন্ম। যখন সমাজে এই চিন্তা প্রবল হয়, তখনই কাঙ্খিত সুখের সংসার ও প্রেমের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর কাছে অত্যন্ত বিকট ও বীভৎস আকার ধারণ করে। এ বীভৎসতা থেকে সমাজকে মুক্তি পেতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ গ্রহণ-ই একমাত্র পথ। সুন্দর সুশৃঙ্খল,শান্তিময় পরিবার ও সমাজ গঠনে ইসলাম নির্ধারণ করেছে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অনেকগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য। যে দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো পালনের মাধ্যমে একজন স্বামী হয়ে উঠবেন প্রকৃত দায়িত্ববান ও কর্তৃত্বশীল। তবেই কুরআনের নির্দেশনার বাস্তবায়ন হবে। তাই স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য গুলো কি তা পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
মূল আলোচনাঃ-
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সমূহ :
মুহতারাম হাযিরীন! স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পঁচিশটি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যথাঃ-
এক,
স্ত্রীর ত্যাগের মূল্য দেওয়া :
একজন সৎ চরিত্রবান পুরুষের জন্য যে মানুষটি সবচেয়ে কাছের,সবচেয়ে আপন সে মানুষটি হলো তার স্ত্রী। পৃথিবীতে শুধু স্ত্রীই একমাত্র মানুষ, যে স্বামীর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের ঘর-বাড়ি, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া ত্যাগ করে চিরতরে স্বামীর বাড়ি চলে আসে। একটা নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়। আর তখন স্বামীর পরিবারটাই তার নিজের করে নেয়। স্ত্রী একটা সংসারের মূল দায়িত্ব পালন করে। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, আদর-যত্ন স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে সবাইকে আগলে রাখে। আর তাকে আগলে রাখে স্বামী। পরিবারের সবাই যদিও খারাপ হয়, তাতেও তার দুঃখ থাকে না। একমাত্র স্বামী তার প্রতি অনুরাগী থাকলেই যথেষ্ট। স্বামীর একটু সাহচর্যে সে সব কষ্ট ভুলে থাকে। নীরবে সয়ে নেয় সব যাতনা। তাই স্ত্রীর যথাযোগ্য মূল্যায়ন করা এবং তাকে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসা বিবেকবান স্বামীর নৈতিক দায়িত্ব। আর যৌক্তিক দাবিও এটাই যে, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারষ্পরিক আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সুসম্পর্ক হবে অত্যন্ত মধুময়।তাই স্ত্রীর ত্যাগ তিতিক্ষার সঠিক মূল্যায়ন করুন।
দুই,
স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা :
শরীয়তে মোহর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করা স্বামীর উপর ফরজ।মোহরানা আদায় না করা পর্যন্ত স্ত্রী স্বামীর নিকট নিজেকে সমার্পণ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে। এটা তার অধিকার। মোহর আদায় করার ব্যাপারে স্বামীদেরকে নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ তা'আলা সূরা নিসার ৪ নং আয়াতে বলেন-
وَ اٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِهِنَّ نِحۡلَۃً ؕ فَاِنۡ طِبۡنَ لَكُمۡ عَنۡ شَیۡءٍ مِّنۡهُ نَفۡسًا فَكُلُوۡهُ هَنِیۡٓــًٔا مَّرِیۡٓــًٔا
আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও, অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও। (সূরা নিসা: ৪)
তিন,
স্ত্রীর থাকার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা :
আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
اَسۡکِنُوۡهُنَّ مِنۡ حَیۡثُ سَکَنۡتُمۡ مِّنۡ وُّجۡدِکُمۡ وَ لَا تُضَآرُّوۡهُنَّ لِتُضَیِّقُوۡا عَلَیۡهِنَّ.
তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বসবাস কর সেখানে তাদেরকেও বাস করতে দাও, তাদেরকে সঙ্কটে ফেলার জন্য কষ্ট দিয়ো না। (সূরা তালাক: ৬)
অর্থাৎ স্বামীর উপর স্ত্রীর অন্যতম অধিকার হলো- স্ত্রীকে স্বতন্ত্র গৃহে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দেওয়া, যাতে সে কোন রকম সংকোচ ব্যতিরেকে তৃপ্তিসহাকারে স্বামীর সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে পারে। স্ত্রীর ঘরে স্বামীর অন্য কেউ বসবাস করতে পারবে না।আর এ অধিকার নূন্যতম একটি স্বতন্ত্র রুম হলেও হবে। যার তালা-চাবি স্ত্রীর কাছে থাকবে। আর এটা তার ইজ্জত আবরুর নিরাপত্তা ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জরুরী। (হেদায়া,তালাক অধ্যায়)
চার,
স্ত্রীর জন্য পর্দার ব্যাবস্থা করা :
পর্দা করার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা। কেননা তাঁদের আনুগত্য প্রতিটি নর-নারীর উপর ফরয করা হয়েছে। তাই একজন আদর্শ স্বামী হিসেবে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো স্ত্রীকে পর্দায় রাখা। আল্লাহ্ তা‘আলা নারীদেরকে পর্দার নির্দেশ দিয়ে বলেন:
﴿وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَاۖ وَلۡيَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّۖ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوۡ ءَابَآئِهِنَّ أَوۡ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآئِهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ إِخۡوَٰنِهِنَّ أَوۡ بَنِيٓ إِخۡوَٰنِهِنَّ أَوۡ بَنِيٓ أَخَوَٰتِهِنَّ أَوۡ نِسَآئِهِنَّ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّٰبِعِينَ غَيۡرِ أُوْلِي ٱلۡإِرۡبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفۡلِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يَظۡهَرُواْ عَلَىٰ عَوۡرَٰتِ ٱلنِّسَآءِۖ وَلَا يَضۡرِبۡنَ بِأَرۡجُلِهِنَّ لِيُعۡلَمَ مَا يُخۡفِينَ مِن زِينَتِهِنَّۚ وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٣١ ﴾ [النور: ٣١]
আর মুমিন নারীদেরকে বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আন্-নূর: ৩১)
তিনি আরো বলেন:
﴿ وَقَرۡنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ ٱلۡأُولَىٰۖ وَأَقِمۡنَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتِينَ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِعۡنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓۚ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذۡهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجۡسَ أَهۡلَ ٱلۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيرٗا ٣٣ ﴾ [الاحزاب: ٣٣]
“আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। (সূরা আহযাব: ৩৩)
সুতরাং নারী নিজেকে ঢেকে রাখবে। এতে সে পবিত্রা থাকবে ও সংরক্ষিতা থাকবে, আর তবেই তাকে কষ্ট দেওয়া হবে না, ফাসেক বা খারাপ লোকেরা তাকে উত্যক্ত করতে সুযোগ পাবে না। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নারীর সৌন্দর্য অপরের কাছে প্রকাশ হলেই তাকে কষ্ট, ফিৎনা ও অকল্যাণের সম্মুখীন হতে হয়। এজন্য আদর্শবান দায়িত্ব হলো স্ত্রীর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা।
কিন্তু দুঃখ আর আফসোস! স্বামী স্ত্রীকে পর্দার ব্যাবস্থা করে দিবে তো দূরের কথা, বরং স্বামী স্ত্রীকে পর্দা করতে বাঁধা দেয়। বন্ধু বান্ধব, দেবর,দুলাভাই, চাচাত ভাই,ফুফাত ভাই এমন নন মাহরাম লোকের সামনে যেতে বাধ্য করা হয়। অথচ স্বামীর জন্য স্ত্রীকে পর্দার ব্যবস্থা করে দেওয়া ওয়াজিব। তাকে বেপর্দার দিকে ঠেলে দেওয়া নয়। বন্ধু বান্ধব এর সামনে দেখা সাক্ষাৎ করতে নিয়ে নিজের জন্য তথা তার সর্বনাশ আনায়ন করা মোটেই বৈধ নয়।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ "
হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারী পর্দাবৃত থাকার বস্তু। যখন সে পর্দাহীন হয়ে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। (সহীহ তিরমিযী: ১১৭৩)
হযরত আলী (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবীদের উদ্দেশ্যে) বললেন, মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি? তারা চুপ হয়ে গেলেন। (কেউ বলতে পারলেন না) অতপর আমি ফিরে এসে ফাতেমা (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি ? তিনি বললেন, কোনো পরপুরুষ তাকে দেখবে না (অর্থাৎ নারী পর্দাবৃত থাকবে)। তারপর আমি ঐ বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, নিশ্চয় ফাতেমা আমার অংশ, সে সত্য বলেছে। (মুসনাদুল বাযযার: ৫২৬)
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন,
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا قُوۡۤا اَنۡفُسَكُمۡ وَ اَهۡلِیۡكُمۡ نَارًا وَّ قُوۡدُهَا النَّاسُ وَ الۡحِجَارَۃُ عَلَیۡهَا مَلٰٓئِكَۃٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا یَعۡصُوۡنَ اللّٰهَ مَاۤ اَمَرَهُمۡ وَ یَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ
হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে আর তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে মোতায়েন আছে পাষাণ হৃদয় কঠোর স্বভাব ফেরেশতা। আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা তারা অমান্য করে না, আর তারা তাই করে, তাদেরকে যা করার জন্য আদেশ দেয়া হয়। (সূরা আত-তাহরীম: ৬)
সুতরাং স্ত্রীর জন্য উচিৎ নয়, বেপর্দা হওয়ার ব্যাপারে স্বামীর আনুগত্য করা। স্বামীর আনুগত্য ওয়াজিব। কিন্তু গুনাহের ক্ষেত্রে তার অনুগত্য বৈধ নয়। কেননা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق
স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির বাধ্য হওয়া বৈধ নয়। (আহমাদ, সহীহুল জামে: ৭৫২০)
পাচ,
স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যাবস্থা করা :
আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
وَ عَلَی الۡمَوۡلُوۡدِ لَهٗ رِزۡقُهُنَّ وَ کِسۡوَتُهُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ؕ
পিতার কর্তব্য যথারীতি তাদের (সন্তান ও তার মায়ের) ভরণপোষণ করা। (সূরা বাকারা: ২৩৩)
عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ؟، قَالَ: أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ، وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ، أَوِ اكْتَسَبْتَ، وَلَا تَضْرِبِ الْوَجْهَ، وَلَا تُقَبِّحْ، وَلَا تَهْجُرْ إِلَّا فِي الْبَيْتِ،
হাকীম ইবনু মু’আবিয়াহ আল-কুশাইরী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো উপর তার স্ত্রীর কি হক রয়েছে? তিনি বললেনঃ তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে। তুমি পোশাক পরিধান করলে তাকেও পোশাক দিবে। তার মুখমন্ডলে মারবে না, তাকে গালমন্দ করবে না এবং পৃথক রাখতে হলে ঘরের মধ্যেই রাখবে।
(সুনানে আবূ দাউদ: ২১৪২)
অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণের জিম্মাদার স্বামী।স্বামী তার স্ত্রীকে উপার্জন করার তাগিদ দিতে পারবে না এবং স্বেচ্ছায় বৈধভাবে কোন আয় রোজগার করলে তা একান্তই তার। এতে স্বামীর হস্তক্ষেপ চলবে না। কেননা স্বামী-সন্তানের ভরণপোষণ স্ত্রীর দায়িত্বে নয় বরং স্বামীকে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ দিতে হবে। এটা তার উপর ওয়াজিব।
*স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়ার পদ্ধতি :
স্বামীকে তার সামার্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হবে। আল্লাহ তা'লা বলেন,
لِیُنۡفِقۡ ذُوۡ سَعَۃٍ مِّنۡ سَعَتِهٖ ؕ وَ مَنۡ قُدِرَ عَلَیۡهِ رِزۡقُهٗ فَلۡیُنۡفِقۡ مِمَّاۤ اٰتٰىهُ اللّٰهُ ؕ
সামর্থ্যবান যেন নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে আর যার রিয্ক সংকীর্ণ করা হয়েছে সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা হতে ব্যয় করে। (সূরা ত্বলাক: ৭)
হেদায়া গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে,ভরণপোষণের ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অবস্থার দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যদি ধনী হয় অথবা উভয়ই গরীব হয়, তবে ধনীর ক্ষেত্রে নাফাকাহ ধরা হবে- ধনী হলে ধনাঢ্যতা অনুযায়ী এবং গরিব হলে দরিদ্রতা অনুযায়ী। আর যদি স্ত্রী গরীব এবং স্বামী ধনী হয়,তবে স্ত্রীকে মাঝামাঝি ধরনের নাফাকাহ প্রদান করতে হবে। আর যদি স্বামী সামার্থ্য থাকা সত্ত্বেও কৃপাণতা করে তাহলে স্ত্রীকে অধিকার দেওয়া হয়েছে তার ও তার সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচাদি স্বামীর সম্পদ থেকে নিয়ে নিবে। এজন্য সে গুনাহগার হবে না।
বুখারী শরীফে এক হাদিসে বর্ণিত আছে,
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ هِنْدَ بِنْتَ عُتْبَةَ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ وَلَيْسَ يُعْطِينِي مَا يَكْفِينِي وَوَلَدِي إِلاَّ مَا أَخَذْتُ مِنْه“ وَهُوَ لاَ يَعْلَمُ فَقَالَ خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ.
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হিন্দা বিনত উতবা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সুফ্ইয়ান একজন কৃপণ লোক। আমাকে এত পরিমাণ খরচ দেন না, যা আমার ও আমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে যতক্ষণ না আমি তার অজান্তে মাল থেকে কিছু নিই। তখন তিনি বললেনঃ তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে যা যথেষ্ট হয় তা তুমি নিতে পার। (সহীহ্ বুখার: ৫৩৬৪)
*ভরণ-পোষণের পাশাপাশি স্ত্রীর হাত খরচ দেওয়াও স্বামীর দায়িত্ব :
মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. বলেন- স্ত্রীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর,নিরাপদ বসবাসের ব্যাবস্থা করার দায়িত্ব স্বামীর। ইজ্জত আবরুর নিরাপত্তার দায়িত্ব স্বামীর, তাদের চিত্তবিনোদন বা মনোরঞ্জনের দায়িত্ব স্বামীর। চিকিৎসা সেবা-শুশ্রূষার দায়িত্ব স্বামীর। ছেলে -মেয়েদের লেখাপড়া, খাদ্য-খোরাকের দায়িত্ব স্বামীর। এক কথায় সংসারের যত ঝক্কি ঝামেলা সবই তো বেচারা স্বামীর কাঁধে, তার দায়িত্বে। অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান, সাজ-সরঞ্জাম যাবতীয় অধিকার আদায়ের পর স্ত্রীকে হাত খরচ বাবদ কিছু টাকা পয়সা দেওয়াও তার অধিকার। কেননা মহিলারা সাধারণত লাজুক প্রকৃতির হয়ে থাকে। তার এমন ব্যক্তিগত প্রয়োজন থাকতে পারে যা সে তার স্বামীর কাছে বলতেও লজ্জাবোধ করে।তাই স্বামীর সামার্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর হাত খরচ হিসেবে তার কাছে কিছু অর্থ-কড়ি রাখা উচিত যা সে স্বাধীন ভাবে খরচ করতে পারে।
ছয়,
স্ত্রীর নারীত্বকে গুরুত্ব দেওয়া :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّهُنَّ خُلِقْنَ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسْرَتَهُ وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ»
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নারীদেরকে সদুপদেশ দিবে। কারণ তাদেরকে পাঁজরের বাঁকা হাড় হতে সৃষ্টি করা হয়েছে, পাঁজরের হাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বাঁকা (হাড়) হলো উপরেরটি (আর সেই বাঁকা হাড় থেকেই নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে) অতএব তুমি যদি ঐ হাড়কে (পুরোপুরি) সোজা করতে চেষ্টা কর, তবে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি রেখে দাও, তবে সর্বদা বাঁকাই থাকবে। সুতরাং (আমার নাসীহাত) তোমরা নারীদেরকে সদুপদেশ দিবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ: ৩২৩৮)
জ্ঞানস্বল্পতার কারণে কেউ কেউ নারীর এই বক্রতাকে দোষ হিসেবে দেখে। অথচ হাদিসের উদ্দেশ্য আদৌ নারীর দোষ বর্ণনা করা নয়,বরং এ শিক্ষা দেওয়া উদ্দেশ্য যে,পাঁজরের হাড় যদি বাঁকা না হয়,তাহলে তাকে যেমন সুস্থ পাঁজরের হাড় বলা যায় না, তাকে অসুস্থ বলা হয়। অনুরূপভাবে নারীর স্বভাবই হলো বাঁকা প্রকৃতির। এটা নারীর সৌন্দর্য। যেমন গায়ের রং কালো হওয়া দোষ হলেও চুল কালো হওয়া গুণ। তেমনি বাঁকা জিনিস অপছন্দনীয় হলেও নারীর ক্ষেত্রে তা পছন্দনীয়। বক্রতাই নারীর সৌন্দর্য। যে নারীর মাঝে বক্রতা থাকে না,সে নারী থেকে নারীত্বের পূর্ণ স্বাদ পাওয়া যায় না। নারীর বক্রতা মেনে নিয়েই আন্তরিকতা ও ভালোবাসার অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সর্বদা স্বরণ রাখতে হবে যে, স্ত্রীকে জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শত চেষ্টার পরও যে কাজ আদায় করা যায় না, ভালোবাসাপূর্ণ উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সে কাজ অতি সহজেই আদায় করা যায়।
সাত,
একাধিক স্ত্রী থাকলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা :
একজন সামার্থ্যবান পুরুষ একসাথে চারজন পর্যন্ত স্ত্রী রাখতে পারবে। এটা দোষণীয় নয়।এটাকে দোষণীয় কিংবা খারাপ মনে করা ঈমান পরিপন্থি। পবিত্র কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ
(যে সকল নারী বিয়ে করা তোমাদের জন্য বৈধ,সেসব) নারীদের ভেতর যাদেরকে তোমাদের ভালো লাগে তাদের মধ্য থেকে দুই,তিন,কিংবা চারজনকে বিবাহ করো। (সূরা নিসা: ৩)
তবে অসামার্থ্য হলে একাধিক বিবাহের অনুমতি নেই। মহান আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ প্রদান করেছেন,
فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تَعۡدِلُوۡا فَوَاحِدَۃً
আর যদি এরূপ আশঙ্কা করো যে,স্ত্রীদের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে পারবে না তাহলে শুধুমাত্র একজনকেই বিবাহ করো। (সূরা নিসা: ৩)
পুরুষদের জন্য একাধিক বিবাহ শুধুমাত্র তখনই বৈধ, যখন শরিয়ত মোতাবেক সকল স্ত্রীর সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচারণ করা হবে।তাদের সবার অধিকার সমানভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এ ব্যাপারে অপারগ হলে এক স্ত্রীর ওপরেই নির্ভর করতে হবে এবং এটাই ইসলামের নির্দেশ।
* সমতার প্রয়োজনে লটারি দিতে হবে :
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ سَفَرًا أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ، فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا مَعَهُ، وَكَانَ يَقْسِمُ لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ يَوْمَهَا وَلَيْلَتَهَا،
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও সফরের ইচ্ছা করলে স্ত্রীদের মাঝে লটারি করতেন। যার নাম আসতো তিনি তাঁকে নিয়েই সফরে বের হতেন। এছাড়া প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য অন্য একদিন এক রাত নির্ধারিত করে দিতেন। (সহীহ্ বুখারী: ২৪২২)
*স্ত্রীদের মাঝে সমতা বজায় না রাখার শাস্তি :
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ، فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا ؛ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ.
যার দু’টি স্ত্রী রয়েছে এতদ্সত্ত্বেও সে এক জনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়লো তা হলে সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উঠবে যে, তার এক পার্শ্ব নিম্নগামী থাকবে। (আবূ দাউদ: ২১৩৩)
সুতরাং প্রত্যেক স্ত্রীর মাঝে খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রাত্রি যাপনের ব্যাপারে সমতা বজায় রাখতে হবে। তবে মনের টান অন্য জিনিস। তাতে সবার মধ্যে সমতা বজায় রাখা কখনোই সম্ভবপর নয়। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
«وَلَنْ تَسْتَطِيْعُوْا أَنْ تَعْدِلُوْا بَيْنَ النِّسَآءِ، وَلَوْ حَرَصْتُمْ، فَلَا تَمِيْلُوْا كُلَّ الْـمَيْلِ فَتَذَرُوْهَا كَالـْمُعَلَّقَةِ، وَإِنْ تُصْلِحُوْا وَتَتَّقُوْا فَإِنَّ اللهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا».
তোমরা কখনো স্ত্রীদের মাঝে (সার্বিকভাবে) সুবিচার স্থাপন করতে পারবে না। এ ব্যাপারে যতই তোমাদের ইচ্ছা বা নিষ্ঠা থাকুক না কেন। অতএব তোমরা কোন এক জনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না। যাতে করে অপর জন ঝুলানো অবস্থায় থেকে যায়। তবে যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহ্ তা‘আলাকে ভয় করো তা হলে আল্লাহ্ তা‘আলা নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল করুণাময়। (সূরা নিসা: ১১৯)
তবে কোন স্ত্রীকে এমনভাবে ভালোবাসা যা অন্য স্ত্রীর উপর যুলুম করতে উৎসাহিত করে তা অবশ্যই অপরাধ। যেমন: তাকে এমনভাবে ভালোবাসা যে, সর্বদা তারই আবদার-আবেদন রক্ষা করা হয় অন্য জনের নয় এবং তার কাছেই বেশি বেশি রাত্রি যাপন করা হয় অন্য জনের কাছে নয়। এমনকি তাকে সর্বদা নিকটে রেখেই অন্যকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।
আট,
স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচারণ করা :
সংসার জীবনে স্বামীর যেমন মর্যাদা আছে,তেমন স্ত্রীরও অধিকার আছে। স্ত্রীর অধিকার আদায় করা স্বামীর জন্য আবশ্যক। স্ত্রীর সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ عَاشِرُوۡهُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ
আর তোমরা স্ত্রীদের সাথে সৎভাবে জীবনযাপন করো। (সূরা নিসা: ১৯)
অর্থাৎ তাদের সাথে উত্তম কথা বলবে। কথায়, কাজে, চলাফেরায় যতটুকু সম্ভব সৌন্দর্য রক্ষা করবে। যেমনটি তুমি তাদের কাছ থেকে আশা কর, তেমন ব্যবহারই করো।
، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِي.
আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে সে-ই ভাল যে তার পরিবারের নিকট ভাল। আর আমি আমার পরিবারের নিকট তোমাদের চাইতে উত্তম। (তিরমিযী: ৩৮৯৫)
وَعَن عَائِشَة رَضِي الله عَنهُ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وألطفهم بأَهْله
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সচ্চরিত্রের অধিকারী ও পরিবার-পরিজনের সাথে সদ্ব্যবহারকারী প্রকৃত মু’মিনগণের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিযী: ২৬১২)
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারিত্রিক সৌন্দর্যের মধ্যে এটা ছিল যে, তিনি সদাহাস্য সুন্দর ব্যবহার করতেন। পরিবারের সাথে হাস্যরস, নরম ব্যবহার ইত্যাদি করতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে কখনো কখনো দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন।
عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ: فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ، فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ: هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ
আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারো দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন বিজয়ী হলেন। তিনি বলেনঃ এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (আবু দাউদ: ২৫৭৮, ইবন মাজাহ: ১৯৭৯, মুসনাদে আহমাদ: ৬/১২৯)
অপর এক হাদিসে বর্ণিত আছে,
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ يَتَقَمَّعْنَ مِنْهُ، فَيُسَرِّبُهُنَّ إِلَىَّ فَيَلْعَبْنَ مَعِي.
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
(সহীহ্ বুখারী: ৬১৩০)
নয়,
স্ত্রীকে মারধর না করা :
وَعَنْ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي امْرَأَةً فِي لِسَانِهَا شَيْءٌ يَعْنِي الْبَذَاءَ قَالَ: «طَلِّقْهَا» . قُلْتُ: إِنَّ لِي مِنْهَا وَلَدًا وَلَهَا صُحْبَةٌ قَالَ: «فَمُرْهَا» يَقُولُ عِظْهَا «فَإِنْ يَكُ فِيهَا خَيْرٌ فَسَتَقْبَلُ وَلَا تَضْرِبَنَّ ظَعِينَتَكَ ضَرْبَكَ أُمَيَّتَكَ»
লাক্বীত্ব ইবনু সবিরাহ্ হতে (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী অত্যন্ত মুখরিতা (বাচাল)। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে তালাক দিয়ে দাও। আমি বললাম, কিন্তু ঐ স্ত্রীর ঘরে আমার সন্তান রয়েছে এবং সে আমার দীর্ঘ দিনের দাম্পত্য সঙ্গীনী। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে তাকে নাসীহাত কর। যদি সে তোমার উপদেশে ভালো হয়ে যায় তবে ভালো। কিন্তু স্ত্রীকে ক্রীতদাসীর ন্যায় মারবে না। (মিশকাত শরীফ: ৩২৬০)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمَعَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَجْلِدْ أَحَدُكُمُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعْهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ
আব্দুল্লাহ ইবনু যাম্’আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন ক্রীতদাসীর ন্যায় স্ত্রীকে না মারে (অত্যাচার না করা হয়), অথচ দিনের শেষেই তার সাথে সহবাস করে। (সহীহ্ বুখারী: ৪৯৪২)
عَنْ إِيَاسِ بْنِ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «لَا تَضْرِبُوا إِمَاءِ اللَّهِ» فَجَاءَ عُمَرُ إِلَى رَسُولِ الله فَقَالَ: ذَئِرْنَ النِّسَاءُ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ فَرَخَّصَ فِي ضَرْبِهِنَّ فَأَطَافَ بَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ طَافَ بِآلِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أُولَئِكَ بِخِيَارِكُمْ»
আয়াস ইবনু ’আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ তা’আলার বান্দীগণকে (স্ত্রীগণকে ক্রীতদাসীর ন্যায়) মেরো না। অতঃপর ’উমার এসে বললেন, (আপনার নিষেধাজ্ঞার দরুন) স্বামীদের ওপর রমণীদের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (প্রয়োজনসাপেক্ষে) মারার অনুমতি দিলেন। এমতাবস্থায় রমণীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণের নিকট পুনঃপুন এসে স্বামীদের (অত্যাচারের) ব্যাপারে অভিযোগ করতে লাগল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শুনে রাখ! আমার পরিবার-পরিজনের নিকট স্ত্রীগণ স্বামীদের অভিযোগ নিয়ে পুনঃপুন আসছে যে, তোমাদের মধ্যে (যারা স্ত্রীদেরকে এরূপে কষ্ট দেয়) তারা কোনক্রমেই ভালো মানুষ নয়।
(আবূ দাঊদ: ২১৪৬, ইবনু মাজাহ: ১৯৮৫, দারিমী: ২২৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান: ৪১৮৯, সহীহ আল জামি: ৭৩৬০)
দশ,
স্ত্রীকে শাসন করা যদি সে অবাধ্য হয় :
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন,
اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوۡنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰهُ بَعۡضَهُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ وَّ بِمَاۤ اَنۡفَقُوۡا مِنۡ اَمۡوَالِهِمۡ ؕ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلۡغَیۡبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰهُ ؕ وَ الّٰتِیۡ تَخَافُوۡنَ نُشُوۡزَهُنَّ فَعِظُوۡهُنَّ وَ اهۡجُرُوۡهُنَّ فِی الۡمَضَاجِعِ وَ اضۡرِبُوۡهُنَّ ۚ فَاِنۡ اَطَعۡنَکُمۡ فَلَا تَبۡغُوۡا عَلَیۡهِنَّ سَبِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَلِیًّا کَبِیۡرًا
পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাযাত করেছেনে। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, বিছানায় তাদেরকে ত্যাগ কর এবং তাদেরকে (মৃদু) প্রহার কর। এরপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমুন্নত মহান।
*শাসন করার পদ্ধতি:
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীকে সংশোধন কিংবা শাসন করার তিনটি উপায় বাতলে দিয়েছেন যাথাঃ-
১. وَ الّٰتِیۡ تَخَافُوۡنَ نُشُوۡزَہُنَّ فَعِظُوۡہُنَّ আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও। অর্থাৎ স্ত্রীদের পক্ষ থেকে যদি নাফরমানী সংঘটিত হয়। কোনো কারণে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্য হয় বা তার অধিকার আদায় না করে; বরং উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে যায় কিংবা এমন আশংকা দেখা দেয়, তাহলে তার ব্যাপারে উত্তেজিত না হয়ে বরং নিজেকে সংযত রেখে প্রথম পর্যায়ে তাদেরকে মিষ্টি ভাষায় নরমভাবে বোঝাবে,সুপদেশ দিবে।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَوْصُوْا بِالنِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيْمُهُ كَسَرْتَهُ وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوْا بِالنِّسَاءِ.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ-
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নারীদেরকে উত্তম নাসীহাত প্রদান করবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি বেশী বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে যাবে আর যদি ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাঁকাই থাকবে। কাজেই নারীদেরকে নাসীহাত করতে থাক। (সহীহ্ বুখারী: ৩৩৩১)
২. وَ اہۡجُرُوۡہُنَّ فِی الۡمَضَاجِعِ তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর। অর্থাৎ নম্রভাবে বুঝানোর পরেও,সুুপদেশ দেওয়ার পরেও যদি স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য থাকে। তাহলে স্ত্রীর ব্যবহারে রাগ-অনুরাগ,অভিমান প্রকাশ করার জন্য স্বামী স্ত্রীর সাথে একত্রে রাতযাপন করা থেকে বিরত থাকবে। স্ত্রীর ঘুমানোর জায়গা পৃথক করে দিবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটা সাধারণ একটি শাস্তি, কিন্তু মনস্তাত্বিক বিচারে সর্বোত্তম সতর্কবাণী। স্ত্রী যদি এতেই সতর্ক হয়ে যায় এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয় তাহলে দাম্পত্য জীবন সুখের হবে। অশান্তি-পেরেশানী দূর হবে।
৩. وَ اضۡرِبُوۡہُنَّ এবং তাদেরকে প্রহার কর। অর্থাৎ যদি উপদেশ ও শয্যা ত্যাগের মাধ্যমেও সংশোধন না হয় তবে মৃদুভাবে প্রহার করবে, তিরস্কার করবে। আর তার সীমা হল
এই যে, শরীরে যেন সে মারধরের প্রতিক্রিয়া কিংবা যখম না হয়।
عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ؟، قَالَ: أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ، وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ، أَوِ اكْتَسَبْتَ، وَلَا تَضْرِبِ الْوَجْهَ، وَلَا تُقَبِّحْ، وَلَا تَهْجُرْ إِلَّا فِي الْبَيْتِ،
হাকীম ইবনু মু’আবিয়াহ আল-কুশাইরী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো উপর তার স্ত্রীর কি হক রয়েছে? তিনি বললেনঃ তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে। তুমি পোশাক পরিধান করলে তাকেও পোশাক দিবে। তার মুখমন্ডলে মারবে না, তাকে গালমন্দ করবে না এবং পৃথক রাখতে হলে ঘরের মধ্যেই রাখবে।
(সুনান আবূ দাউদ: ২১৪২)
হাদিসের ব্যাখ্যায় ফেকাহবিদগণ বলেছেন, স্ত্রীকে সাধারণত চার কারণে সামান্য পরিমাণ শাসন করা যেতে পারে।
১. স্বামীর যৌন চাহিদা পূরণ করতে আহ্বান করার পরও যদি স্ত্রী শরীয়তসম্মত ওজর (হায়েজ-নিফাস বা শারিরীক অসুস্থতা) ব্যতীত অমান্য করে।
২. স্বামী চায় স্ত্রী সাজসজ্জা করে পরিপাটি হয়ে থাকুক, তবুও যদি স্ত্রী সাজসজ্জা ও রূপচর্চা না করে।
৩. শরিয়তের ফরজ বিধানাবলি পরিত্যাগ করলে। নামাজ না পড়লে,রোজা না রাখলে,পর্দা না করলে ইত্যাদি।
৪. শরিয়তসম্মত ওজর ছাড়া স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বাড়ি থেকে বের হলে। (সূত্রঃ ফয়জুল কালাম, পৃষ্ঠা -৩৭৭)
উপরোক্ত চারটি কারণে স্ত্রীকে শাসন করার অনুমতি থাকলেও কিন্ত স্ত্রীকে নির্দয়ভাবে মারধর করা যাবে না,বরং একান্ত অপারগ অবস্থায় হালকা প্রহার করা যেতে পারে। তবে কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে-
১.শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এমনভাবে মারা যাবে না।
২.চেহারায় মারা যাবে না।
৩.একাধিক বার আঘাত করা যাবে না।
৪.মিসওয়াক দ্বারা মৃদু প্রহার করবে। যেন আঘাত কম লাগে এবং দেহে দাগ না পড়ে।
৫.ঠিক রাগের মুহুর্তে প্রহার করবে না।এতে বাড়াবাড়ি হয়ে যেতে পারে।
৬.চর বা থাপ্পড় দিলে আস্তে দিত