22/07/2026
আসসালামু আলাইকুম। ২০২৬–২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তাহলে রিটার্ন সাবমিট করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই যাচাই করে নিন। অনেক সময় সামান্য অসতর্কতার কারণে রিটার্ন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো—
১. সকল করযোগ্য আয় সঠিকভাবে প্রদর্শন করুন চাকরি, ব্যবসা, পেশা, ভাড়া বা অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত করযোগ্য আয় যথাযথভাবে উল্লেখ করুন।
২. সম্পদের বিবরণ সঠিকভাবে প্রদান করুন বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক আমানতসহ প্রযোজ্য সম্পদের তথ্য গোপন না করে সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন।
৩. ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করুন আপনার নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করুন।
৪. উৎসে কর্তিত কর (TDS) ও অগ্রিম করের তথ্য নির্ভুল দিন যে পরিমাণ কর কর্তন বা পরিশোধ করা হয়েছে, কেবল সেই পরিমাণই প্রদর্শন করুন।
৫. কর রেয়াত (Tax Rebate) দাবি করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য বিনিয়োগের বিপরীতে রেয়াত দাবি করুন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।
৬. তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ রাখুন যে তথ্য বা দাবির সমর্থনে কোনো নথি নেই, তা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন।
৭. যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ রাখুন মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সঠিকভাবে প্রদান করুন, যাতে প্রয়োজন হলে কর কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করতে পারে।
৮. সঠিক Tax Zone ও Tax Circle নির্বাচন করুন কর অঞ্চল বা সার্কেল ভুল হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৯. চূড়ান্ত সাবমিটের আগে পুরো রিটার্ন পুনরায় পরীক্ষা করুন তথ্য, সংখ্যা ও সংযুক্ত নথির মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন।
১০. Acknowledgement Copy সংরক্ষণ করুন রিটার্ন সফলভাবে দাখিল হওয়ার পর প্রাপ্ত স্বীকৃতিপত্র
(Acknowledgement) ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
বিশেষভাবে মনে রাখুন
🔹 রিটার্নে সবসময় সত্য ও সঠিক তথ্য প্রদান করুন।
🔹 প্রদত্ত প্রতিটি তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।
🔹 সাবমিট করার আগে পুরো রিটার্ন অন্তত একবার মনোযোগ দিয়ে পর্যালোচনা করুন।
সঠিক ও নির্ভুল রিটার্ন দাখিল করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সহজ হয় এবং কর পরিপালনও আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।