19/07/2025
💡অর্থ আইন ২০২৫-২৬: ব্যক্তি শ্রেণীর আয়করে পরিবর্তন ও আগামী দুই অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের পূর্বাভাস 💡
সম্প্রতি পাশ হওয়া অর্থ আইন ২০২৫-২৬ (Finance Ordinance 2025-26) বাংলাদেশের ব্যক্তিগত আয়কর ব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তনগুলো শুধু অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৫-২৬ (Income Year: ১লা জুলাই ২০২৪ - ৩০শে জুন ২০২৫) এর জন্যই প্রযোজ্য নয়, বরং অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭ (Income Year: ১লা জুলাই ২০২৫ - ৩০শে জুন ২০২৬) এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্যও কিছু প্রস্তাবিত কর হার ও সীমা ঘোষণা করা হয়েছে।
✨ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৫-২৬: যা অপরিবর্তিত থাকছে এবং নতুন সংযোজন ✨
অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৫-২৬ এর জন্য ব্যক্তিগত আয়করের কাঠামোতে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি। মূলত, বিদ্যমান কাঠামোটিকেই সামান্য কিছু পরিবর্তন সহকারে রাখা হয়েছে।
👉 সাধারণ ব্যক্তি করদাতা:
সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা অপরিবর্তিত থাকছে।
এর ওপরের আয়ের জন্য করের হার নিম্নরূপ:
মোট করযোগ্য আয় (টাকায়) করের হার (%)
➡️ প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত শূন্য
➡️ পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ৫%
➡️ পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১০%
➡️ পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১৫%
➡️ পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২০%
➡️ পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২৫%
➡️ অবশিষ্ট আয়ের উপর ৩০%
📌 এখানে উল্লেখ্য, পূর্বে সর্বোচ্চ করের হার ২৫% থাকলেও, এবারের বাজেটে ২০,০০,০০০ টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ৩০% করের হার পুনরায় চালু করা হয়েছে, যা উচ্চ আয়ের করদাতাদের উপর প্রভাব ফেলবে।
✨বিশেষ শ্রেণীর করদাতাদের জন্য করমুক্ত সীমা: ✨
করদাতার ধরন করমুক্ত আয়ের সীমা (টাকায়)
➡️ মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের সিনিয়র সিটিজেন ৪,০০,০০০
➡️ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৪,৭৫,০০০
➡️ গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ৫,০০,০০০
➡️ তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ৪,৭৫,০০০
➡️ কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা বেশি হবে।
👉ন্যূনতম কর (Assessment Year 2025-26):
এই অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ করদাতার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে:
🚀 ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৫,০০০ টাকা
🚀 অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৪,০০০ টাকা
🚀 সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকায়: ৩,০০০ টাকা
✨অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭: ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত✨
অর্থ আইন ২০২৫-২৬-এ শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের (AY 2026-27 এবং AY 2027-28) জন্যও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতারা আগে থেকেই তাদের আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন।
👉সাধারণ ব্যক্তি করদাতা:
অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭ থেকে সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩,৭৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
করের হারগুলো নিম্নরূপ হবে:
মোট করযোগ্য আয় (টাকায়) করের হার (%)
➡️ প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত শূন্য
➡️ পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১০%
➡️ পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১৫%
➡️ পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২০%
➡️ পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২৫%
➡️ অবশিষ্ট আয়ের উপর ৩০%
📌 এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো, ৫% এর স্লাবটি বাতিল করে সরাসরি পরবর্তী স্লাবটিকে (১০%) প্রথম করযোগ্য স্লাব হিসেবে ধরা হয়েছে।
👉বিশেষ শ্রেণীর করদাতাদের জন্য বর্ধিত করমুক্ত সীমা:
📌 AY 2026-27 থেকে বিশেষ শ্রেণীর করদাতাদের জন্যও করমুক্ত সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে:
করদাতার ধরন করমুক্ত আয়ের সীমা (টাকায়)
➡️ মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের সিনিয়র সিটিজেন ৪,২৫,০০০
➡️ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৫,০০,০০০
➡️ গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ৫,২৫,০০০
➡️ তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ৫,০০,০০০
➡️ জুলাই বিপ্লবে আহত ব্যক্তি (যদি সরকারিভাবে স্বীকৃত হন) ৫,২৫,০০০
➡️ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের জন্য প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা বৃদ্ধি পাবে।
👉ন্যূনতম কর (Assessment Year 2026-27 থেকে):
এই অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার থেকে ন্যূনতম করের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। করদাতার অবস্থান নির্বিশেষে, যাদের আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করবে তাদের জন্য একটি স্থির ৫,০০০ টাকা ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হবে। তবে, নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
✨অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন✨
🚀 বেতনভোগী ব্যক্তির স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন: বেতন থেকে আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সর্বোচ্চ সীমা ৪,৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে।
🚀 কৃষি আয়: কৃষি থেকে আয়ের করমুক্ত সীমা ২,০০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে, ফলে মোট করমুক্ত সীমা বেড়ে ৮,৫০,০০০ টাকা হবে।
🚀 টিআইএন (TIN) থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন জমা না দিলে: সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে বা আয় গোপন করলে জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুবিধা বাতিল হওয়ার বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
🚀 রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা: ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩০শে নভেম্বর অপরিবর্তিত থাকলেও, কমিশনারের কাছে আবেদন করে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের সময় বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে।
📌 নতুন অর্থ আইন ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের জন্য কিছু স্বস্তি আনলেও, কিছু ক্ষেত্রে করের বোঝা বাড়তে পারে, বিশেষ করে উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে। করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি এবং কিছু স্লাবের পুনর্বিন্যাস করদাতাদের জন্য কিছুটা ইতিবাচক হলেও, সর্বোচ্চ ৩০% করের হার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
✅ প্রত্যেক করদাতার উচিত তার আয়ের ধরন এবং উৎসের ভিত্তিতে একজন অভিজ্ঞ ট্যাক্স কনসালটেন্ট সাথে পরামর্শ করে যথাযথভাবে আয়কর পরিকল্পনা করা। সরকারি গেজেট এবং এনবিআর-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাও অত্যন্ত জরুরি, কারণ আইনের ব্যাখ্যায় বা প্রয়োগে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
#আয়কর
#ব্যক্তিগতআয়কর
#অর্থআইন২০২৫
#বাজেট২০২৫-২৬
#ট্যাক্সস্ল্যাব
#করমুক্তসীমা
#নতুননিয়ম
#এনবিআর
#বাংলাদেশট্যাক্স
#ফাইন্যান্সঅর্ডিন্যান্স
#করপরিকল্পনা
#ট্যাক্সআপডেট
#মূলপরিবর্তন
#করদাতা
#আর্থিকব্যবস্থাপনা
#ইনকামট্যাক্স
-26
-27
#সিনিয়রসিটিজেনট্যাক্স
#কৃষিআয়কর